সৌদি আরবে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দিতে হলে পাঁচটি ধাপ পেরোতে হয়। এসব ধাপ সম্পন্ন না হলে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায় না বলে জানিয়েছেন শায়খ আব্দুর রাকীব মাদানী।
ধাপ ১: গ্রেপ্তার ও তদন্ত
প্রথমে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর প্রসিকিউশন জিজ্ঞাসাবাদ চালায় এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষীসহ প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ সংগ্রহ করে।
ধাপ ২: প্রাথমিক আদালতে বিচার
দ্বিতীয় ধাপে ফৌজদারি আদালতে মামলার বিচার অনুষ্ঠিত হয়। অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে মনে করলে বিচারক মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।
ধাপ ৩: আপিল আদালত
এই রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপিল আদালতে যায়। আসামি আপিল না করলেও রাষ্ট্র নিজ উদ্যোগে মামলাটি পাঠায়। আপিল আদালত রায়ের যথার্থতা যাচাই করে।
ধাপ ৪: সুপ্রিম কোর্ট
এরপর মামলার পুরো নথি সুপ্রিম কোর্টে পর্যালোচনা করা হয়। রায় শরীয়ত অনুযায়ী সঠিক কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। সুপ্রিম কোর্টও রায় বহাল রাখলে তা চূড়ান্ত রূপ পায়।
ধাপ ৫: রাজকীয় আদেশ
সর্বশেষ ধাপে নথি রাজদরবারে পাঠানো হয়। বাদশাহ অথবা ক্রাউন প্রিন্স স্বাক্ষর করলে রাজকীয় আদেশ (আমর মালাকি) জারি হয়। এরপরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তারিখ ঘোষণা করে দণ্ড কার্যকর করে।
শায়খ আব্দুর রাকীব মাদানী বলেন, এ কারণে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে অন্তত তিনটি আদালতের প্রক্রিয়া এবং বাদশাহর স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। ফলে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সর্বনিম্ন তিন থেকে চার বছর বা তারও বেশি সময় লাগে।
