সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিটিতে এক নারী ও এক পুরুষকে দেখা যাচ্ছে। ছবির ওপর লেখা রয়েছে—“সুনামগঞ্জে স্বামী প্রবাসে থাকায় আপন চাচাশ্বশুরের দ্বারা অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী।”
এমন চাঞ্চল্যকর দাবি ছড়িয়ে পড়ার পর স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ঘটনাটি আসলেই সুনামগঞ্জের কি না এবং ছবির সঙ্গে দেওয়া তথ্য কতটা সত্য—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অনুসন্ধানে যা পাওয়া গেল
ভাইরাল দাবিটির সূত্র খুঁজতে সুনামগঞ্জ, প্রবাসী স্বামী, চাচাশ্বশুর ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি মিলিয়ে বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সুনামগঞ্জে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে একই ধরনের একটি পুরোনো ঘটনা ২০১৯ সালে ফেনীর সোনাগাজীতে ঘটেছিল বলে দেশ রূপান্তরের একটি প্রতিবেদনে পাওয়া যায়। সেখানে এক প্রবাসীর স্ত্রী তাঁর চাচাশ্বশুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেছিলেন এবং ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন।
ঘটনাটি পরে আরও জটিল মোড় নেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, আদালতে ওই নারী জানান, তাঁকে অজ্ঞাত একজন ধর্ষণ করেছিলেন এবং পারিবারিক জমিসংক্রান্ত বিরোধের কারণে চাচাশ্বশুরের বিরুদ্ধে মামলা করতে তাঁকে ভুল বোঝানো হয়েছিল। অর্থাৎ সেই ঘটনাতেও প্রাথমিক অভিযোগ এবং পরবর্তী বক্তব্য এক ছিল না।
তাহলে ভাইরাল ছবিটি কি সুনামগঞ্জের?
এ মুহূর্তে তা নিশ্চিত করে বলার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। ২০১৯ সালের সোনাগাজীর ঘটনার সঙ্গে বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া দাবির ভাষায় কিছু মিল থাকলেও, ভাইরাল ছবির নারী-পুরুষ ওই ঘটনারই ব্যক্তি—এমন প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
ছবিটিতে ঘটনার নির্দিষ্ট স্থান, তারিখ, সংশ্লিষ্ট থানা, মামলা নম্বর কিংবা ব্যক্তিদের পরিচয়ের মতো যাচাইযোগ্য তথ্য নেই। ফলে শুধু ছবির ওপর লেখা বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে সত্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
শেষ কথা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ও কয়েকটি লাইন লিখে পুরোনো কিংবা ভিন্ন এলাকার ঘটনাকে নতুন ঘটনা হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। সুনামগঞ্জের নামে ছড়িয়ে পড়া এই দাবিটি এখন পর্যন্ত যাচাই করা যায়নি।
বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যম, পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টির সত্যতা আরও পরিষ্কার হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত ভাইরাল পোস্টটির দাবিকে অযাচাইকৃত তথ্য হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

viral news https://www.facebook.com/photo?fbid=122206813256779577&set=a.122095896254779577