কিস্তির টাকা নিতে এসে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে কী ঘটেছিল? ভাইরাল ছবি ঘিরে চাঞ্চল্য
স্বামী থাকেন প্রবাসে। এদিকে দেশে সংসারের প্রয়োজন মেটাতে ঋণ ও কিস্তির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন স্ত্রী। কিন্তু সেই কিস্তির টাকা আদায় করতে আসাকে কেন্দ্র করেই নাকি ঘটে যায় অপ্রত্যাশিত ঘটনা!
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন নারী ও এক যুবকের ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। ছবিটির ওপর লেখা—“কিস্তির টাকা নিতে এসে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে…”। নিচে আবার একজনের বক্তব্য হিসেবে লেখা রয়েছে, “আমি কিছু করিনি…”।
স্বাভাবিকভাবেই এমন ছবি দেখে অনেকের প্রশ্ন—আসলে কী ঘটেছিল? ছবিতে থাকা নারী ও পুরুষ কারা? সত্যিই কি তাঁরা কোনো কিস্তি আদায়ের ঘটনার সঙ্গে জড়িত?
এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
অনুসন্ধানে যা পাওয়া গেল
ভাইরাল ছবিটির লেখা ধরে অনুসন্ধান করেও ছবিতে থাকা এই দুজনকে নিয়ে দাবিটির সত্যতা নিশ্চিত করে এমন নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ ছবিটির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া গল্পটিকে এখনই সত্য ঘটনা হিসেবে প্রকাশ করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই।
তবে বাংলাদেশে কিস্তি আদায় করতে গিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির অভিযোগের বাস্তব সংবাদ রয়েছে।
যুগান্তরের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজশাহীর পুঠিয়ার এক মালয়েশিয়া-প্রবাসীর স্ত্রী একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। তাঁর স্বামী মালয়েশিয়ায় আইনি সমস্যায় পড়ায় কয়েকটি কিস্তি সময়মতো দেওয়া সম্ভব হয়নি। ওই নারীর অভিযোগ ছিল, কিস্তি আদায়কে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এনজিও ম্যানেজার তাঁকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগও হয়েছিল।
তবে সেই ঘটনার সঙ্গে এই ভাইরাল ছবির মানুষগুলোর কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তাই দুটি ঘটনাকে এক করে দেখা যাবে না।
ভাইরাল ছবিটি নিয়ে সিদ্ধান্ত কী?
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—শুধু ছবির ওপর লেখা কয়েকটি বাক্যের ভিত্তিতে ছবিতে থাকা নারী বা পুরুষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত বা যৌন সম্পর্কের অভিযোগ সত্য বলে ধরে নেওয়া যাবে না।
তাঁদের পরিচয়, ঘটনার স্থান, তারিখ, থানার তথ্য কিংবা অন্য কোনো যাচাইযোগ্য সূত্র পাওয়া না যাওয়া পর্যন্ত ছবিটির দাবিটি যাচাইহীন।
