এক বিষয়ে ৫ বার ফেল, এরপর মেডিকেল শিক্ষার্থীর মৃত্যু—শিক্ষককে ঘিরে কী অভিযোগ ছিল?
চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন অর্পিতা নওশিন। তাঁর ব্যাচের সহপাঠীরা যখন ধীরে ধীরে পঞ্চম বর্ষে পৌঁছে গেছেন, তখন তিনি আটকে ছিলেন প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষার একটি বিষয়েই।
একবার নয়—একই বিষয়ে পরপর পাঁচবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেননি তিনি। এরপর কুমিল্লার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা।
কিন্তু শুধুই কি বারবার পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার হতাশা? নাকি এর পেছনে ছিল আরও কোনো ঘটনা?
অর্পিতার মৃত্যুর পর তাঁর সহপাঠী ও পরিবারের বক্তব্য সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
অর্পিতা নওশিন কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় অন্য বিষয়গুলোতে উত্তীর্ণ হলেও অ্যানাটমিতে তিনি অকৃতকার্য হন। পরবর্তী তিন বছরে আরও চারবার ওই বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েও পাস করতে পারেননি বলে সহপাঠীরা জানিয়েছেন।
সহপাঠীদের অভিযোগ ছিল আরও গুরুতর। তাঁদের দাবি, প্রথম বর্ষ থেকেই অ্যানাটমি বিভাগের একজন শিক্ষকের সঙ্গে অর্পিতার সমস্যা তৈরি হয়েছিল এবং তাঁকে মানসিক চাপের মধ্যে রাখা হতো। এমনকি তাঁকে পরীক্ষায় ফেল করানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। তবে কী কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে এই বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তা সহপাঠীরাও স্পষ্ট করে বলতে পারেননি।
একই ব্যাচের অন্য শিক্ষার্থীরা যখন পঞ্চম বর্ষে, তখন অর্পিতা প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষাতেই আটকে ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়, দীর্ঘদিনের এই পরিস্থিতি তাঁর ওপর তীব্র মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছিল।
এরপর ৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় হোস্টেলের কক্ষ থেকে অর্পিতাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন সহপাঠীরা। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যুর পর কলেজ কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং পুলিশও ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে।
তাহলে ভাইরাল ছবির দাবিটি কতটা সত্য?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দাবি করা হচ্ছে, “শিক্ষকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক না করায় পাঁচবার পরীক্ষায় ফেল করা হয়েছিল।”
কিন্তু এখানেই গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে শিক্ষক কর্তৃক মানসিক চাপ, রোষানল এবং ফেল করানোর হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেলেও, “শারীরিক সম্পর্ক করতে রাজি না হওয়ায়” তাঁকে ফেল করানো হয়েছিল—এমন তথ্যের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বরং প্রথম আলোর প্রতিবেদনে সহপাঠীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষক কেন এমন আচরণ করেছিলেন, তার সুনির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট ছিল না।
তাই ভাইরাল ছবিটির এই অংশকে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে প্রচার করা ঠিক হবে না। শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছিল।
